চলতি মাসে প্রকাশিত সর্বশেষ আয়ের প্রতিবেদনে প্রযুক্তি জায়ান্টটি জানিয়েছে, গত প্রান্তিকে দেশটিতে কোম্পানির আয় আগের বছরের তুলনায় ৩৮ শতাংশ বেড়েছে। খবর ওয়্যার্ড।
বাজার পর্যবেক্ষকদের মতে, এ প্রবৃদ্ধির মূল কারণ আইফোনের আকাশচুম্বী চাহিদা। ২০২৪-২৫ সালের শুরু পর্যন্ত টানা ১৮ মাস চীনে অ্যাপলের বিক্রি নিম্নমুখী ছিল। সেই ধাক্কা সামলে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোকে অ্যাপলের জন্য বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের সঙ্গে এক বৈঠকে অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুক জানান, চীনের বাজারে আইফোন আপগ্রেড বা পুরনো মডেল বদলে নতুন মডেল নেয়ার ক্ষেত্রে নতুন রেকর্ড গড়েছে অ্যাপল। এছাড়া অন্যান্য অপারেটিং সিস্টেম (যেমন অ্যান্ড্রয়েড) ছেড়ে আইওএসে আসা গ্রাহকের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
চীনের স্মার্টফোন বাজারে অ্যাপলের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি অনেক বিশেষজ্ঞকেই অবাক করেছে। গত কয়েক বছর হুয়াওয়ে ও শাওমির মতো স্থানীয় ব্র্যান্ডগুলো আইফোনের সঙ্গে সরাসরি পাল্লা দিচ্ছিল। কোম্পানিগুলো একের পর এক উন্নত ফিচারের দামি ফোন বাজারে এনে অ্যাপলের একচ্ছত্র আধিপত্য ভাঙতে শুরু করে। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে হুয়াওয়ে ২ হাজার ৮০০ ডলার মূল্যের একটি ‘ট্রাই-ফোল্ড’ (তিন ভাঁজ করা যায় এমন) স্মার্টফোন উন্মোচন করে প্রযুক্তি বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদ্বন্দ্বীদের মতো খুব বেশি জাঁকজমকপূর্ণ প্রযুক্তির পেছনে না ছুটে অ্যাপল বরং আইফোনের পারফরম্যান্স এবং সঠিক দাম নির্ধারণের ওপর জোর দিয়েছে। চীনের স্থানীয় ব্র্যান্ডগুলোর ফোনে উন্নত ক্যামেরা বা অত্যাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) থাকলেও গ্রাহকদের প্রথম পছন্দ এখন আইফোন ১৭ সিরিজ।
প্রতিবেদন বলছে, চীনে অ্যাপলের নিজস্ব এআই সেবা ‘অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স’ এখনো চালু না হলেও গ্রাহকরা আইফোনের ওপরই ভরসা রাখছেন।
গত প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) চীনে অ্যাপলের এ সাফল্যের একটি বড় অংশ জুড়ে আছে আইফোন ১৭-এর বেস (প্রাথমিক) মডেলটি। সাধারণত আইফোন বাজারে আসার পর শুরুর দিকে ক্রেতারা প্রো বা প্রো ম্যাক্স মডেলগুলোর দিকেই বেশি ঝুঁকে থাকেন। কিন্তু ২০২৫ সালে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। আইফোন ১৬-এর তুলনায় আইফোন ১৭-এর বেস মডেলে এমন কিছু বড় পরিবর্তন ও ফিচার যুক্ত করা হয়েছে, যা আগে কেবল প্রো সিরিজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।
বাজার বিশ্লেষক শনিম্যানের মতে, এ আধুনিক ফিচারগুলোই সাধারণ গ্রাহকদের দ্রুত ফোন আপগ্রেড করতে উৎসাহিত করেছে।
পাশাপাশি গত বছর চীন সরকার ইলেকট্রনিকস ও গাড়ি ক্রয়ে ৪৩ বিলিয়ন ডলারের বিশাল এক ভর্তুকি প্যাকেজ ঘোষণা করে। নিয়ম অনুযায়ী, যেসব স্মার্টফোনের দাম ৬ হাজার ইউয়ানের নিচে, সেগুলোয় ১৫ শতাংশ ছাড় দেয়া হয়। অ্যাপল আইফোন ১৭-এর দাম নির্ধারণ করে ৫ হাজার ৯৯৯ ইউয়ান। ফলে সাধারণ ক্রেতারা সরকারি ছাড়ের সুযোগ নিয়ে সস্তায় আইফোন কেনার সুযোগ পান, যা বিক্রি বৃদ্ধিতে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে।